মঙ্গলবার, 07 জানুয়ারি 2014 00:00

কৃষিজমি নষ্ট করে শিল্প প্রতিষ্ঠান!

প্রথম আলো || মিরসরাইয়ে প্রায় ১২ একর তিন ফসলি কৃষিজমি নষ্ট করে সাহেরখালীর বদিউল্যাপাড়ায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রশাসন কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজ দাখিল করতে বললেও প্রতিষ্ঠানটি করেনি। প্রতিষ্ঠানের নাম সিপি বাংলাদেশ লিমিটেড।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, দেশের প্রচলিত আইন না মেনে কৃষিজমিতে সিপি বাংলাদেশ কাজ করছে। স্থানীয় সাংসদের নির্দেশে গত ২৪ ডিসেম্বর কাজ বন্ধ রাখতে সিপির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কাজ বন্ধ রেখে সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে তাঁর কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। কিন্তু সিপি কর্তৃপক্ষ কোনো কাগজ জমা দেয়নি।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস হোসেন জানান, সাহেরখালীতে কারখানা গড়ে তোলার সংবাদ পেয়ে গত ২৪ ডিসেম্বর মাসিক সমন্বয় সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্থানীয় সাংসদ মোশাররফ হোসেন, উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দীনসহ উপস্থিত জনপ্রতিনিধিরা। সভায় ফসলি জমিতে কোনো ধরনের স্থাপনা, শিল্পকারখানা করতে না দেওয়ার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মিরসরাইয়ের উপকূলীয় সাহেরখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বদিউল্ল্যাহ পাড়ার (নোয়াপাড়া) দক্ষিণ মঘাদিয়া মৌজায় প্রায় ১২ একর কৃষিজমিতে সিপি বাংলাদেশ সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করছে। যেসব জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে, তার পাশের জমিতে এখনো কৃষকের ফসল রয়েছে।
স্থানীয় কৃষক জামাল উদ্দীন ও দুলাল মিয়া বলেন, এ জমিগুলোতে ঢ্যাঁড়স, মুগডাল, মসুর ডালসহ বিভিন্ন ফসল হতো। এখানে কারখানা হলে এসব কিছু হবে না।
সাহেরখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান নুরুল মোস্তফা বলেন, কাজ শুরু করতে তিনি সিপিকে অনাপত্তিপত্র দিয়েছেন। কৃষি, শিল্প ও পরিবেশের ছাড়পত্র দেখেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেগুলো তাঁরা পরে দেবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেন, আওয়ামী লীগের নেতারা এ কাজে প্রায় দেড় কোটি টাকা লগ্নি করেছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোশাররফ হোসেন বলেন, কৃষিজমি অকৃষি খাতে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তিনি বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশে সিপিকে শিল্পপ্রতিষ্ঠান করতে পরামর্শ দেন।
সিপির জেলা ব্যবস্থাপক রাকিবুল হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি অন্য একটি নম্বর দিয়ে ওই নম্বরে কথা বলতে বলেন। ওই নম্বরে ফোন করলে ফোন গ্রহণকারী ফারুক পরিচয় দিয়ে জানান সেটি ভুল নম্বর। পুনরায় রাকিবুলের নম্বরে ফোন করলে তিনি আর ফোনটি রিসিভ করেননি।